বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। সূত্রগুলোর ভাষ্য, তিনি কিছু বিষয়ে তথ্য স্বীকার করলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা সীমিত দেখানোর চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে, মোজাফফরকে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিটে রাখা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার দেওয়া তথ্য অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করছেন।
এদিকে তার গ্রেপ্তারের পর হত্যা মামলার তদন্ত নতুন গতি পেয়েছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত একজন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনেক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। তবে তার দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেনা আইনে মোজাফফরকে আগে থেকেই পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এখন যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হতে পারে।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে এখনো বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তার মতে, মেজর (অব.) মোজাফফরের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের আগে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মোজাফফর হোসেন পলাতক ছিলেন এবং সেনা আইনে তাকে ‘অ্যাবসকন্ডিং’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে বিচারিক ও সামরিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সে সময় দুই লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি রাজধানীর একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বর্তমানে তার জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

