রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর এবার ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে ২০২৭ সালের মধ্যে লিজে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ১০টি লিজ উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছাবে।
সূত্র জানায়, লিজে উড়োজাহাজ নেওয়ার এই উদ্যোগ বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির বাইরে একটি পৃথক পরিকল্পনা। কারণ বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ হওয়ার কথা। অন্যদিকে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে বোয়িং ও এয়ারবাস—কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই ২০৩০ সালের আগে নতুন উড়োজাহাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই মধ্যবর্তী সময়ের চাহিদা পূরণে লিজের পথ বেছে নিচ্ছে বিমান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিচালনাগত প্রয়োজন ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর ওপর নির্ভর করে এ সংখ্যা ১০টিতে উন্নীত হতে পারে।
তিনি জানান, চলতি বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যেও সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
লিজ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। সেখান থেকে একটি যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে পুরো লিজ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে বিমান ইতোমধ্যে ছয় বছরের জন্য ড্রাই লিজে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার নেওয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এসব উড়োজাহাজ ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। চুক্তি অনুযায়ী বহরে যুক্ত হবে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির পর বিমানকে ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দেয় এয়ারবাস। প্রস্তাবে রয়েছে ৬টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ৪টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। বর্তমানে প্রস্তাবটি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক সুবিধা ও পরিচালনাগত প্রয়োজন বিবেচনায় যাচাই-বাছাই করছে বিমানের সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্স কমিটি।
সম্প্রতি এয়ারবাসের প্রস্তাব পর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও এর মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রয়েছে।

