রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের পিও শফিক দেশে বসেই চালাচ্ছেন ‘সাম্রাজ্য’, বহাল তবিয়তে অবৈধ ব্যবসা ও লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | সহরাব হুসাইন ,ঢাকা

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতারা গা-ঢাকা দিলেও, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ক্ষমতার অন্যতম উৎস ও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) শফিকুল ইসলাম শফিক দেশেই বহাল তবিয়তে আছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও তিনি এখনো অধরা। ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে এলাকায় গুজব ছড়ানো হলেও বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, তিনি দেশেই আত্মগোপনে থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও অত্যন্ত কৌশলে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন শফিক। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের পুবাইলে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় অবস্থান করছেন। সেখানে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে তিনি আলাদা একটি বলয় বা ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন। পুবাইল এলাকায় তার নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পত্তি ও বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মাঝে মাঝে তিনি ঢাকার নাখালপাড়ায় নিজের ফ্ল্যাটেও যাতায়াত করেন।

ঘুষ ও মাদক বাণিজ্যে শতকোটি টাকা:
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই শেষ দিন পর্যন্ত তার পিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শফিক। এই দীর্ঘ সময়ে মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে তদবির ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তেজগাঁও ও পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণে অবাধ মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি চলত। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা মাসোহারা তুলতেন তিনি।

এমনকি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় আসনে বিভিন্ন সময় নগদ অর্থ অনুদানের তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীদের নাম ঢুকিয়ে দিতেন শফিক। মন্ত্রীর হাত থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের অনুদান নেওয়ার সেই ছবিগুলো পরবর্তীতে এলাকায় প্রভাব খাটাতে ফেসবুকের কভার ফটো হিসেবেও ব্যবহার করা হতো।

টাকা তুলছেন ব্যাংক থেকে, কোটি টাকার নতুন চুক্তি:
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির বাইরে থেকে শফিক নিয়মিত বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলছেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থাতেই সম্প্রতি তিনি পশ্চিম নাখালপাড়ার ৩০৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের প্রায় ৬ কাঠা জমির মালিকদের সঙ্গে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ব্যক্তিগত চুক্তি করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী ভবনের সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় বহন করবেন শফিক এবং বিনিময়ে অর্ধেক ফ্ল্যাটের মালিকানা পাবেন তিনি। এই চুক্তির সময় জমির মালিকদের ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে তিনি নগদ ১ কোটি টাকা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বহুতল ভবনের মালিক:
শফিক অবৈধ টাকায় পশ্চিম নাখালপাড়ার ১২ নম্বর গলির ৩১০ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি বিলাসবহুল ভবনের পঞ্চম তলায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন, যেখানে বর্তমানে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান বসবাস করছেন। এছাড়া পশ্চিম নাখালপাড়ার ৩০০ নম্বর হোল্ডিংয়ে তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে, যেখানে আরেকটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিতর্কিত এই পিও প্রকাশ্যেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন ও ভবন নির্মাণের চুক্তি করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারছে না।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন