চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবটে একটি প্রশ্ন লিখে মুহূর্তেই উত্তর পাওয়া যায়। ব্যবহারকারীর কাছে পুরো প্রক্রিয়াটি যতটা সহজ মনে হয়, এর পেছনের বাস্তবতা ততটাই জটিল। প্রতিটি উত্তর তৈরির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ডাটা সেন্টারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর (জিপিইউ) নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। এসব অবকাঠামো পরিচালনায় প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ এবং শীতলীকরণের জন্য ব্যবহৃত হয় প্রচুর পানি।
এআইয়ের সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক এআই সার্ভার পরিচালনায় প্রচলিত সার্ভারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
বিশেষ করে বৃহৎ ভাষা মডেল (Large Language Model) পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত জিপিইউভিত্তিক সার্ভারগুলো উচ্চ ক্ষমতায় চলায় বিদ্যুতের ওপর চাপও বাড়ছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শীতল রাখতে প্রয়োজন বিপুল পানি
শুধু বিদ্যুৎ নয়, ডাটা সেন্টারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ পানি ব্যবহার। অধিকাংশ বড় ডাটা সেন্টারে সার্ভারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাষ্পীভবনভিত্তিক কুলিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়।
গবেষকদের একাংশের মতে, একটি এআই উত্তর তৈরিতেও কিছু পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয়। তবে ঠিক কতটা পানি লাগে, সে বিষয়ে এখনো একক বৈজ্ঞানিক মতামত নেই। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দেওয়া তথ্য এবং স্বাধীন গবেষণার ফলাফলের মধ্যেও এ বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়।
বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?
বাংলাদেশে এখনো বৃহৎ এআই মডেলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত হলেও দেশীয় ডাটা সেন্টার শিল্প ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। একই সময়ে দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগও চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে দেশে এআইভিত্তিক সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আধুনিক ডাটা সেন্টার এবং পরিবেশবান্ধব কুলিং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন হবে।
সমাধানের পথ খুঁজছে প্রযুক্তি খাত
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং আরও শক্তি-সাশ্রয়ী এআই চিপ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। লক্ষ্য হলো কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আরও বেশি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিস্তার অব্যাহত থাকবে। তবে এর সঙ্গে জ্বালানি ও পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

