ব্যস্ত জীবনযাত্রায় প্রতিদিন জিমে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে সুস্থ থাকতে যে সবসময় কঠোর ওয়ার্কআউটই করতে হবে, এমন ধারণা বদলে দিচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা দিনে অল্প অল্প করে শরীর সচল রাখার অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য উপকার বয়ে আনতে পারে।
এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং’ বা ‘স্ন্যাকটিভিটি’—অর্থাৎ দিনের বিভিন্ন সময়ে কয়েক মিনিট করে শরীরচর্চা করা।
মাত্র ৫ মিনিটেও মিলতে পারে সুফল
বিভিন্ন দেশের প্রায় দেড় লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ—যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠা—অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনোভাবেই নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নয়। তবে যারা প্রায় সারাদিন বসে থাকেন বা একেবারেই শরীরচর্চা করেন না, তাদের জন্য এই সামান্য সক্রিয়তাও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কমান বসে থাকার সময়
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন বসে থাকার সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট কমিয়ে যদি হাঁটা বা হালকা নড়াচড়া করা যায়, তাহলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশির শক্তি, হাড়ের সুস্থতা এবং দৈনন্দিন শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার অভ্যাস ভাঙা জরুরি।
কী এই ‘এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং’?
এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং বলতে বোঝায়, দিনের বিভিন্ন সময়ে ১ থেকে ৫ মিনিটের ছোট ছোট শারীরিক কার্যকলাপ করা। এর জন্য জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যেমন—
সিঁড়ি ব্যবহার করা
দ্রুত হাঁটা
কয়েকটি স্কোয়াট বা লাঞ্জ করা
প্রিয় গানের সঙ্গে কয়েক মিনিট নাচা
ঘরের কাজ একটু দ্রুত গতিতে করা
দীর্ঘ সময় বসে থাকলে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাহাঁটি করা
এ ধরনের ছোট ছোট ব্যায়াম শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
১০ হাজার কদমই কি একমাত্র লক্ষ্য?
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটার পরামর্শ জনপ্রিয় হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে এর চেয়ে কম হাঁটলেও উপকার পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কদম হাঁটাও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে যত বেশি নিয়মিতভাবে শরীর সচল রাখা যায়, তত বেশি স্বাস্থ্যগত সুফল পাওয়া সম্ভব।
ছোট অভ্যাস, বড় পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য সবসময় দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। বরং সারাদিনে কয়েকবার অল্প সময়ের জন্য শরীরকে সচল রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে তা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্স্বাস্থ্য, পেশির শক্তি, বিপাকক্রিয়া এবং সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই ব্যস্ততার অজুহাতে শরীরচর্চা পুরোপুরি বাদ না দিয়ে, দিনের ফাঁকে ফাঁকে কয়েক মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাসই হতে পারে সুস্থ জীবনের সহজ সূচনা।

