বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আনা হচ্ছে। আগামী আগস্টের শুরু থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে এসব কোচ সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিস (রাইটস)-এর সঙ্গে ৯১৫ কোটি রুপির একটি চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পটির অর্থায়নে সহায়তা করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)।
বর্তমানে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেল কোচ কারখানায় এসব কোচ নির্মাণের কাজ চলছে। যদিও ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটির কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের মে মাসে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়।
এর আগে একই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করা হয়েছে।
রাইটসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল বলেন, বাংলাদেশে ২০০টি নতুন কোচ সরবরাহের এই আদেশ প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি জানান, প্রথম চালানে ২০টি কোচ খুব শিগগিরই বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস রেল, মহাসড়ক, বিমানবন্দর ও নগর পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভারতীয় রেলের রোলিং স্টক রপ্তানির কাজ পরিচালনা করে।
এদিকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে।
২০০৮ সালে চালু হওয়া মৈত্রী এক্সপ্রেস পশ্চিমবঙ্গ থেকে ঢাকার মধ্যে প্রায় ৩৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করত এবং প্রায় নয় ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাত। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ট্রেনটির চলাচল স্থগিত করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছিল ভারত। পরে গত মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটন ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।

