ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ কিংবা নানা দুশ্চিন্তার মাঝে কিছুক্ষণ পার্কে হাঁটা বা সবুজ গাছপালার মাঝে সময় কাটানোর পর যদি মনটা হালকা লাগে, তবে সেটি কেবল অনুভূতি নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প সময়ের জন্যও প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকলে শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতির মাঝে সময় কাটালেই মানসিক চাপ কমতে শুরু করে। তাই দীর্ঘ সময় না থাকলেও পার্কে ছোট্ট একটি হাঁটা বা গাছের নিচে কিছুক্ষণ বসে থাকাও উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবুজ গাছপালা দেখা, পাখির ডাক শোনা কিংবা বাতাসের মৃদু শব্দ শরীরকে স্বাভাবিকভাবেই শান্ত করে। এতে হৃদস্পন্দন ধীরে আসে, রক্তচাপ কমতে শুরু করে এবং শরীর ধীরে ধীরে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ফিরে যায়।
প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকলে শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা কমে যায়। ফলে উদ্বেগ, অস্থিরতা ও মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। নিয়মিত সবুজ পরিবেশে সময় কাটালে মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি শারীরিক স্থিতিশীলতাও বাড়ে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
শুধু দৃশ্য নয়, প্রকৃতির গন্ধও শরীরকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। গাছপালা ও মাটির প্রাকৃতিক গন্ধ শ্বাসের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রশান্তি এনে দেয়। বিশেষ করে পাইন গাছের সুগন্ধ মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাটি ও গাছপালায় থাকা কিছু উপকারী অণুজীব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, প্রকৃতির সংস্পর্শ শরীরের জন্য এক ধরনের ‘প্রাকৃতিক অনুশীলন’, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে প্রতিদিন পার্ক বা বনে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে বাসায় গাছ লাগানো, বারান্দায় সবুজের মাঝে কিছুক্ষণ বসা বা প্রকৃতির দৃশ্য দেখা থেকেও ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া যেতে পারে। এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির ছবি দেখলেও কিছুটা মানসিক প্রশান্তি অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার অভ্যাস গড়ে তুললে মানসিক চাপ কমানো, মন ভালো রাখা এবং সুস্থ জীবনযাপনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

