কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন শুধু তথ্য খোঁজা বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং অনেকের ব্যক্তিগত কথোপকথনেরও অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা মানসিক চাপ, একাকিত্ব বা ব্যক্তিগত সংকটের সময়ে এআই চ্যাটবটের সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেয়। এ প্রেক্ষাপটে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন একটি ফিচার নিয়ে কাজ করছে মেটা।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কোনো কিশোর বা কিশোরী যদি মেটা এআই-এর সঙ্গে কথোপকথনের সময় আত্মহত্যা, আত্মক্ষতি বা জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো গুরুতর বিষয় উল্লেখ করে, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার অভিভাবকদের সতর্ক করা হতে পারে।
তবে এ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হবে না। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথন প্রথমে এআই শনাক্ত করবে। এরপর মানব পর্যালোচকরা সেটি যাচাই করবেন। পর্যাপ্ত ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তবেই অভিভাবকদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।
মেটার ভাষ্য, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সংকটে থাকা কিশোর-কিশোরীদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনা।
এ ছাড়া, কোনো ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আত্মহত্যার ঝুঁকির শক্তিশালী ইঙ্গিত পাওয়া গেলে জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা সংস্থাকেও অবহিত করার সুযোগ রাখা হবে।
এই নীতিমালা শুধু অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এআই কথোপকথনে আত্মহত্যার তাৎক্ষণিক ঝুঁকির ইঙ্গিত মিললে পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি সহায়তা সক্রিয় করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
বর্তমানে নিরাপত্তা ফিচারটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। শুরুতে সীমিত কয়েকটি দেশে এটি চালু করা হবে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে অন্যান্য দেশেও ফিচারটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই চ্যাটবট মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকেই মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কথা প্রথমে এআই-এর সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। ফলে ব্যবহারকারীদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মেটার মতে, প্রযুক্তির কাজ শুধু তথ্য সরবরাহ করা নয়, প্রয়োজনে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সংকটাপন্ন ব্যবহারকারীদের দ্রুত সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ করতে সহায়ক হতে পারে।

