সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আন্দোলনের উত্তেজনার মধ্যেই জেন-জি ইস্যুতে মুখ খুললেন মোদি

নিউজ ডেস্ক

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে এ তথ্য জানান।

রিজিজুর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী একটি নির্ভুল, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি এনডিএ জোটের শরিকদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বিরোধী দলগুলোকেও সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের ভবিষ্যৎ এবং তরুণ প্রজন্মের স্বার্থে সব সংসদ সদস্যের যৌথভাবে কাজ করা উচিত।

মোদির এ মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সোমবার দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীকে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, বিশেষ করে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ ভর্তি পরীক্ষা নিটে প্রতি বছর ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত মে মাসের পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে গত মাসের শেষ দিকে পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

নিট বিতর্কের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ভুল নম্বর দেওয়া হয়েছে কিংবা অন্য শিক্ষার্থীর নামে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

কিরেন রিজিজু জানান, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশের পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২১ দিনের অনশনে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গত শনিবার জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সোমবার তিনি ঘোষণা দেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আচরণের প্রতিবাদে হাসপাতাল থেকেই তিনি পুনরায় অনশন শুরু করবেন।

তবে সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে দেওয়া জনসম্মুখের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন