বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যাদের রাজপথে দেখা যায়নি, তারা ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্য অটুট রেখে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়েই পথ চলতে চান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য, পারস্পরিক আস্থা ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন বিভেদের কারণ না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে না থেকেও এখন অনেকেই সেই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিতে চায়। ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই মানুষ বুঝে যায় কার কথা বলা হচ্ছে।

তারেক রহমানের দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পুরো সময় তাদের খুঁজেও পাওয়া যায়নি। কিন্তু ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর তারা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসে। দেশের মানুষের আস্থা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষায় এসব ‘গুপ্ত’ শক্তির ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর যৌথ উদ্যোগেই এই সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছিল এবং জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাই ৩১ দফা বাস্তবায়নেও সমমনা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। শতভাগ সফল না হলেও জনগণ ইতোমধ্যে এর সুফল অনুভব করতে শুরু করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পৌঁছে শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি তাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

এ সময় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন