সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলে তার জবাবে ইরানকে ‘বহুগুণ বেশি মূল্য’ দিতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে পাকিস্তান ও কাতার ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন একটি যৌথ প্রস্তাব দিয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করে, তাহলে তার প্রতিক্রিয়ায় দেশটিকে বহুগুণ বেশি মূল্য দিতে হবে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানি সরকারি সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, পাকিস্তান ও কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে একটি যৌথ প্রস্তাব দিয়েছে। এতে উভয় দেশকে ৯ জুলাইয়ের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। পাশাপাশি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থগিত আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথাও বলা হয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠক ইসলামাবাদ অথবা দোহায় অনুষ্ঠিত হতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ রয়েছে এবং এই পরিস্থিতির স্বাভাবিক পরিণতি মেনে নেওয়ার জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ১৪টি ধারার কোনোটিতেই ইরান তার জাতীয় স্বার্থ, নীতি বা বিপ্লবী মূল্যবোধ থেকে সরে আসেনি। বরং চুক্তির অধিকাংশ বিষয়ই ইরানের স্বার্থের অনুকূলে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, একদিকে ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করছে। তার ভাষায়, কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল সম্পর্কে ইরান সম্পূর্ণ সচেতন।

এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (২৫) এবং প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস (১৯)। ইসলামিক স্টেট (আইএস)বিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে তারা প্রাণ হারান।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় ওই দুই সেনা নিহত হন। এর ফলে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জন।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনারা সরাসরি ইরানে অবস্থান না করলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তাদের সামরিক উপস্থিতির কারণে চলমান সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন