গ্রামীণ সড়ক সচল রাখা এবং দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য সভায় একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রকল্পটি বিবেচনায় আসবে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করবে। ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দরিদ্র নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যা তাদের পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, ১৯৮৩-৮৪ সাল এবং পরে ২০০৩-২০০৭ মেয়াদে এলজিইডির অধীনে বড় পরিসরে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় এ ধরনের কোনো বড় কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের সব জেলার অধিকাংশ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন প্রকল্পটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি শুধু গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখবে না, বরং নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সারা বছর সড়ক সচল থাকায় কৃষিজাত ও অ-কৃষিজাত পণ্য পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ আরও সহজ হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের আরেক কর্মকর্তা জানান, জলবায়ু ঝুঁকি, দারিদ্র্য এবং পরিবেশগত ঝুঁকির সূচক বিবেচনায় প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও শক্তিশালী হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার, গ্রামীণ উন্নয়ন কৌশল এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ‘আইডিয়াল ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটেন্সি’ এটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। এছাড়া প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিও (পিইসি) কিছু শর্তসাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৫১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৫২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ প্রকল্পের জন্য নামমাত্র বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ সড়কের বছরব্যাপী ব্যবহার নিশ্চিত হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সহজ হবে, হাজারো দরিদ্র নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

