বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বদলে যাচ্ছে দেশের বিমান ও পর্যটন খাত, ডিসেম্বরে আসছে বড় চমক

নিউজ ডেস্ক

দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে ব্যাপক সংস্কার ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর বৃদ্ধি, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরতে একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সরকার।

ঢাকা পোস্টকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, আগামী ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে সরকার আশা করছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ ও প্রতিটি নতুন রুটের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের কাজও চলছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি লাভজনক ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, সরকারের সংস্কার কার্যক্রম তিনটি মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে— সুশাসন (গভর্ন্যান্স), ব্যবসায়িক কৌশল (বিজনেস স্ট্র্যাটেজি) এবং সেবার আধুনিকায়ন (সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন)। যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সম্ভাবনাময় রুট চালু, ডিজিটাল সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য।

বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে মিশ্র বহর (মিক্সড ফ্লিট) গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে বোয়িংয়ের ১৪টি ও এয়ারবাসের ১০টিসহ মোট ২৪টি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর পাঁচটি উড়োজাহাজ লিজে নেওয়ার উদ্যোগে ৪০টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিমান খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) ব্যবস্থার ব্যবহার, নিয়মিত আর্থিক অডিট, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কর্মসম্পাদনভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, লাগেজ চুরি, অব্যবস্থাপনা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অভিযোগ কমাতে ইতোমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকি, ভিজিল্যান্স টিম, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ব্যাগেজ রিকনসিলিয়েশন সিস্টেম (বিআরএস) চালুর ফলে লাগেজ সরবরাহের সময়ও কমে এসেছে।

পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং জোরদার করার পাশাপাশি ই-ভিসা, মেডিক্যাল (এমটি) ভিসা ও রিলিজিয়াস ট্যুরিস্ট (আরটি) ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারসহ সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্যগুলোর উন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়ন নয়; বরং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন ও পর্যটনের একটি প্রতিযোগিতামূলক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন