বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

নিউজ ডেস্ক

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পুরো জাতিকে শোকাহত করেছে। তবে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং আহতদের সাহস ও দৃঢ়তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সোমবার (২১ জুলাই) জাতীয় ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি আয়োজিত ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্মৃতি জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করবে। তিনি নিহতদের জন্য দোয়া এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও তারা যে সাহস, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা পুরো জাতির জন্য অনুকরণীয়। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় তাদের শক্তি জোগাবে এবং মানবিক মূল্যবোধ আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), রহমান ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও প্রতিনিধিদের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংকটের সেই মুহূর্তে অসংখ্য মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা একা নন; দেশের মানুষ তাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়। আগুনে দগ্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গ করা শিক্ষিকা মাহেরিন চৌধুরীর আত্মত্যাগ তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গাপুর, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকরা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি দেশীয় চিকিৎসকরাও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই শুধু চিকিৎসা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপরও জোর দিতে হবে।

স্মরণসভায় নিহত মাইলস্টোন কো-অর্ডিনেটর মাহেরিন চৌধুরীর স্বামী এবং দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদও বক্তব্য দেন। তারা দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ারও আবেদন জানান তারা।

অনুষ্ঠান শেষে ডা. জুবাইদা রহমান নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন