রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মানবজীবনে ইসলামের সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক

ইসলাম মানুষের সামর্থ্য, বাস্তবতা ও মানবিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়—এর অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ পাওয়া যায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনের একটি প্রসিদ্ধ ঘটনায়।

সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, এক সাহাবি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি।” নবীজি (সা.) কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, রমজান মাসে রোজা থাকা অবস্থায় তিনি স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করেছেন।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে রোজা ভঙ্গ করলে সেই রোজার কাজা আদায়ের পাশাপাশি কাফফারাও আদায় করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে ওই সাহাবিকে একজন দাস মুক্ত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি জানান, তার সেই সামর্থ্য নেই।

এরপর নবীজি (সা.) তাকে টানা দুই মাস রোজা রাখার নির্দেশ দেন। সাহাবি জানান, শারীরিক সক্ষমতার অভাবে সেটিও তার পক্ষে সম্ভব নয়। পরে ৬০ জন অভাবী মানুষকে খাদ্য খাওয়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি জানান, সেই সামর্থ্যও তার নেই।

এরপর মহানবী (সা.) তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। কিছু সময় পর সদকার খেজুর এলে তিনি সেই সাহাবিকে তা দিয়ে বলেন, এগুলো দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে দিতে। কিন্তু সাহাবি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, মদিনায় তার পরিবারের চেয়ে বেশি অভাবী আর কেউ নেই।

সাহাবির কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুচকি হেসে তাকে সেই খেজুর নিজের পরিবারকে নিয়ে খাওয়ার অনুমতি দেন।

এই ঘটনা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে সামনে আনে—আল্লাহ তাআলা মানুষের ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। শরিয়তের বিধান পালনে আন্তরিকতা থাকলে এবং বাস্তব অক্ষমতা থাকলে ইসলাম সহজতার পথ দেখায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হাদিসে শুধু কাফফারার বিধানই নয়, বরং মহানবী (সা.)-এর দয়া, প্রজ্ঞা, মানবিকতা এবং মানুষের বাস্তব অবস্থা বিবেচনার শিক্ষা ফুটে উঠেছে। ইসলামের বিধান কঠোরতার জন্য নয়; বরং মানুষের কল্যাণ, সংশোধন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সহজ করার জন্যই প্রণীত।

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই ঘটনাটি যুগে যুগে মুসলমানদের জন্য ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ, দয়ালু ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন