বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়নসংক্রান্ত বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা, সরকারি হোটেল পুনর্নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২২ সালে প্রণীত কক্সবাজারের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনা করে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। চলতি বছর পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করে ২০২৬ সালের মধ্যে তা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেল সংযোগ ও উন্নত সড়ক অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়নসংক্রান্ত বিদ্যমান ৫০ ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বৈঠকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন কয়েকটি সরকারি হোটেল আধুনিকায়নের জন্য পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি পরিবেশগত ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারকে শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্লু ইকোনমির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং আধুনিক নগরসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোপুরি চালু হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও বিকশিত হবে বলে আশা করছে সরকার।

তবে উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশগত বিধিনিষেধ শিথিলের প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন