প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণ সম্ভব।
রোববার (২৬ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা কেবল শরীরচর্চা বা বিনোদনের বিষয় নয়; এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। এ কারণেই ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। আটটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের দক্ষতা বিকাশে একটি কার্যকর ও টেকসই জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে জাতীয় দল এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরির শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাবোধ, সহিষ্ণুতা, দেশপ্রেম এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলতে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি এমন একটি ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।
আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০টিতে উন্নীত হবে। পাশাপাশি আরও বেশি শিশু-কিশোরকে অন্তর্ভুক্ত করতে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে সম্প্রসারণ করে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
পোস্টের শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশ নেওয়া সব খুদে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

