সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘গাজা যুদ্ধ ইরান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ হাতছাড়া করবে না ইসরায়েল’: বাইডেন

নিউজ ডেস্ক

গাজা যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাইডেন প্রশাসনের একাধিক সাবেক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্কার-এর এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করতেন, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের সুযোগ নিতে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

সাবেক কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, গাজা যুদ্ধের বিস্তার এবং পরবর্তীতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পেছনে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতির ভূমিকা রয়েছে।

ইসরায়েলকে সংযত রাখতে চেয়েছিল বাইডেন প্রশাসন

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেন প্রশাসন একাধিকবার নেতানিয়াহু সরকারকে ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে আগাম না জানিয়েই অভিযান পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।

এর উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননে হিজবুল্লাহ সদস্যদের বিরুদ্ধে চালানো ‘পেজার হামলা’ এবং হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যার ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব অভিযানের বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন আগে থেকে অবগত ছিল না।

ইরানের হামলায় ইসরায়েলের পাশে ছিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সহায়তা দেয়। মার্কিন সহায়তার কারণে ওই হামলাগুলোতে ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফিলিপ গর্ডনের বরাতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল জানত যে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন এগিয়ে আসবে।

ট্রাম্প প্রশাসনকে আগেই সতর্কবার্তা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ট্রাম্প টিমকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবে না।

এতে আরও দাবি করা হয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র দুই দফায় ইরান-সংক্রান্ত সামরিক উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ে। সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর পাল্টা হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

‘নৈতিক ঝুঁকিতে’ যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদনে সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা মত দেন, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন দেশটিকে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছে।

ফিলিপ গর্ডনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র একটি “নৈতিক ঝুঁকির” মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতকে গাজা যুদ্ধেরই একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়ন ছিল—ইরান সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতিদের মতো মিত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংঘাত চালিয়ে যাবে। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর কিছু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের একটি অংশ তখন এটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেছিল।

উল্লেখ্য, এসব তথ্য দ্য নিউইয়র্কার-এর প্রতিবেদনে বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা হয়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন