বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাজারের অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, এখন কী করবেন?

নিউজ ডেস্ক

দেশে বাজারজাত অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য প্রকাশের পর ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের টুথপেস্ট ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক অভিভাবক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে জনস্বাস্থ্য ও দন্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে এখনই টুথপেস্ট ব্যবহার বা দাঁত ব্রাশ বন্ধ করার কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ নেই। বরং বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডিও)-এর এক গবেষণায় দাবি করা হয়, দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ তথ্য প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, গবেষণাটি বিস্তারিত পর্যালোচনা না করে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে তিনি জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় মাছ, মাংস, শাকসবজি, বোতলজাত পানি এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও প্লাসেন্টাতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তাই টুথপেস্টই একমাত্র উৎস নয়।

তার মতে, প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত ব্রাশ করার পর ভালোভাবে কুলি করেন, ফলে টুথপেস্টের মাধ্যমে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ অনেক শিশু ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট গিলে ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এর কোনো স্বাস্থ্যগত প্রভাব রয়েছে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

দন্ত বিশেষজ্ঞরাও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তাদের মতে, দাঁতের ক্ষয় রোধ ও মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি গবেষণার ভিত্তিতে টুথপেস্ট ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া যায় না।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহ ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তবে এর প্রকৃত স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত ও নিরপেক্ষ গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জনস্বার্থ ও শিল্পখাতের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রেখে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়টি যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরেক দন্ত বিশেষজ্ঞের মতে, গবেষণার ফল সরকারিভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গবেষণার পেছনে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ গবেষণার তালিকায় থাকা কিছু টুথপেস্ট বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

  • নিয়মিত দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ চালিয়ে যান।
  • ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট গিলে না ফেলার অভ্যাস করুন।
  • শিশুদের ব্রাশ করার সময় অভিভাবকের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করুন এবং অল্প পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
  • সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখুন।
  • গবেষণার ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার আগে গুজব বা আতঙ্ক ছড়িয়ে না দিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করুন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গবেষণার ফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। তবে এ মুহূর্তে দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত ব্রাশ করার অভ্যাস বন্ধ করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন