রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বাতিল হওয়া লাইসেন্স পুনরায় ফিরে পেয়েছে। তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিতে গিয়ে তিনটি শর্ত আরোপ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা এক স্মারকে লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়।
যে তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরেছে
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে—
‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশনস) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর সব বিধান মেনে চলতে হবে।
লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডিউটি ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
ভবিষ্যতে লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করলে সরকার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লাইসেন্স ফিরে পেয়েছে।”
কেন বাতিল হয়েছিল লাইসেন্স
গত ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক চিঠিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়। তবে আইনি বিধান অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ ছিল।
এর আগে গত ২৭ মে, ঈদুল আজহার আগের দিন, রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। তদন্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা বন্ধ থাকা, বিকল্প বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা এবং বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশ
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। একই দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং জানতে চায়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে আপিল বিবেচনা করে সরকার লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে তিনটি শর্ত সাপেক্ষে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে।

