বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ, দাম আকাশচুম্বী

নিউজ ডেস্ক

ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও পিরোজপুরের বাজারে মিলছে না প্রত্যাশিত সরবরাহ। ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের জালে আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ ধরা না পড়ায় বাজারে বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। একই সঙ্গে নদী-খালেও কমে গেছে দেশীয় মাছের উপস্থিতি।

জেলা সদরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায়। মাঝারি ও বড় আকারের ইলিশের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। সামুদ্রিক অন্যান্য মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা মাছের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

চাষের মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি। প্রজাতিভেদে এসব মাছের দাম ২০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং মরমা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। মাছের দামের প্রভাব পড়েছে পোল্ট্রি বাজারেও। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, কক ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার এবং সাগরে অতিরিক্ত ট্রলিংয়ের কারণে মাছের পোনা ও রেণু নষ্ট হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ায় প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষের মাছের দামও বেড়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে মাছ।

পিরোজপুর পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিন বলেন, ইলিশের মৌসুম হলেও বাজারে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রির জন্য যেমন মাছ নেই, তেমনি নিজেদের খাওয়ার জন্যও ইলিশ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী আজমল শেখের ভাষ্য, অবৈধ চায়না জালের কারণে দেশীয় মাছ ধ্বংস হচ্ছে। পাশাপাশি সাগরে ট্রলিং জাহাজের কারণে মাছের রেণু নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। এ বিষয়ে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বাজারে মাছ কিনতে আসা শাহজালাল শেখ বলেন, বর্তমান দামে ইলিশ কেনা তাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তার ভাষায়, ইলিশ এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। ডিম ছাড়ার মৌসুমে নদীতে এলেও বিভিন্ন নদ-নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় সাগর থেকে নদীতে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ছে। এতে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কমে যেতে পারে। এছাড়া পিরোজপুরে ধরা পড়া ইলিশের বড় অংশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়, ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম দেখা যায়।

তিনি আরও জানান, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার রোধে জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন