বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের

নিউজ ডেস্ক

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তিনি জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করা হবে।

সম্প্রতি রাজধানীর লালমাটিয়ায় সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এসডো) দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণার ফল প্রকাশ করে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত ওই গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ মতামত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, আটটি নমুনায় এমন কোনো কণা পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত টুথপেস্টের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় আরও দাবি করা হয়, পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা পণ্যের উপাদান সম্পর্কে অবগত হতে পারছেন না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও কার্যকর তদারকি কঠিন হয়ে পড়ছে।

হাইকোর্টের সর্বশেষ নির্দেশনার পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন