রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কিনতে থাকা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিতে একটি দ্বিদলীয় বিল বড় ব্যবধানে অগ্রসর করেছে মার্কিন সিনেট।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের প্রধান ক্রেতাদের লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ বিলটি সিনেটে ৮৬-১২ ভোটে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েছে। রিপাবলিকানদের পাশাপাশি অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্যও বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প। এ তালিকায় ভারত ও চীনের নাম রয়েছে।
বিলে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ধনকুবের, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া যেসব দেশ তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ১৫ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে নেয় এবং ভবিষ্যতে সেই নির্ভরতা আরও কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, তাদের জন্য ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের অনুরোধে সংশোধিত বিলে ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতে অর্থায়ন সীমিত করতে বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রস্তাবও যুক্ত করা হয়েছে।
চলতি মাসে আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ বিলের পক্ষে সমর্থন গড়ে তুলেছিলেন। মৃত্যুর আগে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বিলটির সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে সমঝোতাতেও পৌঁছেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলটির সমর্থকদের দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির আয় কমানো গেলে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল হবে।
তবে বিলটির শুল্কসংক্রান্ত বিধান নিয়ে কিছু ডেমোক্র্যাট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতিরিক্ত ক্ষমতা পেতে পারেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
এখনও বিলটি আইনে পরিণত হয়নি। সিনেটে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদ গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে থাকায় সেপ্টেম্বরের আগে বিলটি নিয়ে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

