সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কাপাসিয়ায় ব্যস্ত দিন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাইবা, শিক্ষাঙ্গন ঘিরে মানববন্ধনে সরগরম উপজেলা

তৌফিক সুলতান

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একদিকে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইবা) অনুষ্ঠিত হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গনকে ঘিরে পৃথক তিনটি আলোচিত ঘটনায় মানববন্ধন ও তদন্ত কার্যক্রম চলায় পুরো উপজেলায় ছিল ব্যস্ত ও আলোচনামুখর পরিবেশ।

রোববার উপজেলা সদরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ভাইবায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষায় তথ্য সংগ্রহের দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, সাধারণ জ্ঞান, দায়িত্ববোধ এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার উপযোগিতা যাচাই করা হয়। নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই প্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে উপজেলা সদরের ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী এতে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম ও প্রতিষ্ঠাতার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শাহিনা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও অভিভাবক হিসেবে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় তিনি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক আচরণ দেখেননি। তিনি বিষয়টিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, প্রায় দুই দশকের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম সবুজও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে কাপাসিয়া উপজেলার সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তদন্ত শুরু করেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. লুৎফুন নেছার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, এগুলো তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পৃথক মানববন্ধন করেন।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক এতে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম একজন সৎ, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও শিক্ষকবান্ধব কর্মকর্তা। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁরা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁরা দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান।

একই দিনে সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচি, শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত এবং শিক্ষা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে পাল্টা মানববন্ধন—সব মিলিয়ে কাপাসিয়া উপজেলায় দিনটি ছিল ঘটনাবহুল ও আলোচিত।

উল্লেখ্য, উল্লিখিত বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের একাধিক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে সত্য বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।

তৌফিক সুলতান,প্রভাষক – ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজ,(বি জে এস এম মডেল কলেজ)মনোহরদী, নরসিংদী।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন