মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান আলোচনার জন্য মরিয়া বলে দাবি করলেও গত ১৬ থেকে ১৭ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরান কোনো অনুরোধ পাঠায়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলেও জানিয়েছেন দেশটির এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন গারিবাবাদি।
তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আলোচনার জন্য মরিয়া। অথচ গত ১৬ থেকে ১৭ দিনে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য কোনো অনুরোধ পাঠাইনি।”
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান
গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কৌশলগত এই জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবে ইরানের অবস্থান ভিন্ন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সমুদ্রপথে মাইন অপসারণের দায়িত্ব ইরানের ওপর রয়েছে। এ কারণেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে হরমুজ প্রণালির কাছে আসতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রণালিটি যদি আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তাহলে এই যুদ্ধে আমাদের সাফল্য পূর্ণাঙ্গ হবে না।”
মাইন অপসারণে অন্য দেশকে অনুমতি দেয়নি তেহরান
গারিবাবাদি আরও বলেন, ওমানের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণের জন্য অন্য একটি দেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরান ওই উদ্যোগের অনুমোদন দেয়নি।
তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে যাতায়াত ফি আদায়ের অধিকারও ইরান সংরক্ষণ করে।
তার ভাষ্য, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ইরান কেবল ৬০ দিনের জন্য বিনামূল্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বাধ্য।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় অঞ্চলটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

