সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দ.কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে, মিলবে যেসব সুবিধা

নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৪ আগস্ট দুই দেশের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত এই চুক্তি সই হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিইপিএর চূড়ান্ত দফার আলোচনা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে টেলিফোনে সিইপিএ নিয়ে আলোচনা করেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদমন্ত্রী কিম জং-ক্বান। দুই দেশের মন্ত্রীর মধ্যে হওয়া আলোচনা ইতিবাচক ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সিইপিএ কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত বা বিশেষ সুবিধায় প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও এসব বাণিজ্য সুবিধা বহাল রাখার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত চারটি বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। বাকি আটটি বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় পণ্যের উৎস নির্ধারণের বিধি বা রুলস অব অরিজিন, আইটি, প্রকৌশল, আর্থিক সেবা ও শিক্ষা খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাংলাদেশে দেশটির বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত পণ্য খালাস এবং ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সুরক্ষা, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট সংরক্ষণ এবং চুক্তি বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সিইপিএ নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি প্রায় ৪১১ মিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টদের আশা, সিইপিএ কার্যকর হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং এ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক সামগ্রী। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য এবং কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।

সিইপিএ স্বাক্ষর হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং রপ্তানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন