রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক কতটা ক্ষতিকর?

নিউজ ডেস্ক

দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে সুপারশপ—সবখানেই এখন প্রশ্ন উঠছে, টুথপেস্টে থাকা এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও টুথপেস্টে এর উপস্থিতি নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ সাধারণত টুথপেস্ট গিলে খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় না। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন, যাতে তারা ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট গিলে না ফেলে।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ডেন্টাল পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হায়দার আলী খান বলেন, টুথপেস্ট সাধারণত মুখে ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে পরিপাকতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে শিশুদের টুথপেস্ট ব্যবহারের সময় অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই টুথপেস্ট খেয়ে না ফেলে।

আতঙ্ক নয়, সচেতনতা তৈরিই গবেষণার উদ্দেশ্য

গবেষণা পরিচালনাকারী এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) জানিয়েছে, এ গবেষণার উদ্দেশ্য আতঙ্ক তৈরি করা নয়। বাজার পর্যবেক্ষণ, ভোক্তাদের সচেতন করা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর নজর আকর্ষণ করাই এ গবেষণার মূল লক্ষ্য।

এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা বলেন, ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে উৎপাদকরাও পরিবেশবান্ধব বা ইকো-ফ্রেন্ডলি পণ্য উৎপাদনে আরও আগ্রহী হবেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৈজ্ঞানিকভাবে সক্ষম গবেষণাগারেই এসব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের ৩০ থেকে ৩৫টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতিটি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও উপযোগী বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

মানদণ্ড পর্যালোচনার উদ্যোগ বিএসটিআইর

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক জানিয়েছেন, টুথপেস্টে কোন উপাদান ব্যবহার করা যাবে এবং কোন উপাদান ব্যবহার করা যাবে না—সে বিষয়ে বিদ্যমান মানদণ্ড নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে দেশের বিদ্যমান মানদণ্ডে পরিবর্তন আনা হবে।

তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

এদিকে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এক আইনজীবীর করা রিটের পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তদন্ত কমিটিতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং বিএসটিআইয়ের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু টুথপেস্টেই নয়; পানি, মাটি ও বায়ুসহ পরিবেশের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ব্রাশ করার সময় পর্যবেক্ষণে রাখা এবং টুথপেস্ট গিলে ফেলা থেকে বিরত রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন