সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার—এমন তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আরও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

বুধবার মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় রাজ্য নেগেরি সেম্বিলানের চেন্নাহ শহরে আয়োজিত এক জনসভায় এ তথ্য জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে মিয়ানমার তাদের গ্রহণে রাজি না থাকায় বিষয়টি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘মানুষ বলত—রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠান। কিন্তু আমরা কোথায় তাদের পাঠাতাম? মিয়ানমার তো তাদের নিতে রাজি ছিল না।’

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনার পর মিয়ানমার মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি কীভাবে সম্ভব হলো? আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি বলেই সম্ভব হয়েছে। এ কারণেই অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বিষয় সমাধানে সতর্ক ও কার্যকর কূটনীতি প্রয়োজন।’

২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ পোস্ট ও সেনা স্থাপনায় হামলার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।

নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের মুখে লাখো রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

বাংলাদেশ সরকার তাদের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেয়। পরে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা দিতে শুরু করে।

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ১৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়াতেও বড় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

মালয়েশিয়াতেও রোহিঙ্গাদের একটি বড় কমিউনিটি রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন।

চেন্নাহর জনসভায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থীদের দেশটির আইন মেনে চলার আহ্বান জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এর আগেও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলে শরণার্থীদের চলাচল ও অবস্থান নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনুমোদিত শরণার্থী এলাকা ও নির্ধারিত স্থানের বাইরে শরণার্থীদের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘এটি মালয়েশিয়া। কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা জনজীবনে সমস্যা সৃষ্টি করলে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা, সময়সূচি বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন