রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

স্মার্টফোনে কোরআনের অ্যাপ থাকলে কি টয়লেটে নেওয়া যাবে?

নিউজ ডেস্ক

বর্তমানে অনেকেই স্মার্টফোনে পবিত্র কোরআনের অ্যাপ, হাদিস, দোয়া কিংবা আল্লাহ তাআলার নাম সংবলিত বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন। এ কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়—ফোনে কোরআনের অ্যাপ থাকলে সেটি টয়লেটে নিয়ে যাওয়া কি নিষিদ্ধ বা নাজায়েজ?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোরআনের আয়াত, হাদিস বা আল্লাহ তাআলার নামসংবলিত কোনো লেখা দৃশ্যমান অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে যাওয়া সমীচীন নয় এবং তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবে এসব লেখা বা আয়াত দৃশ্যমান না থাকলে স্মার্টফোন টয়লেটে নিয়ে যাওয়াকে নাজায়েজ বলা হয় না।

অর্থাৎ, মোবাইলে কোরআনের অ্যাপ ইনস্টল করা থাকলেও যদি অ্যাপটি খোলা না থাকে কিংবা কোরআনের কোনো আয়াত বা পৃষ্ঠা ফোনের পর্দায় দৃশ্যমান না থাকে, তাহলে ফোনটি সঙ্গে নিয়ে টয়লেটে যাওয়ায় বাধা নেই। এ ক্ষেত্রে কোরআনের লেখা ফোনের ভেতরে সংরক্ষিত থাকলেও তা দৃশ্যমান অবস্থায় থাকে না।

একই নীতি কোরআনের আয়াত, হাদিস বা আল্লাহর নাম লেখা কাগজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোনো কাগজ ভাঁজ করে পকেটে রাখা থাকলে এবং লেখাগুলো বাইরে থেকে দেখা না গেলে তা সঙ্গে নিয়ে টয়লেটে যাওয়াকে নাজায়েজ বলা হবে না।

তবে গলায় থাকা লকেট বা তাবিজে আল্লাহর নাম বা কোরআনের আয়াত লেখা থাকলে এবং তা দৃশ্যমান হলে টয়লেটে প্রবেশের আগে সেটি খুলে রাখা বা এমনভাবে ঢেকে নেওয়া উচিত, যাতে লেখাগুলো দেখা না যায়।

পকেটের কাপড় পাতলা হলে এবং ভেতরে রাখা লেখা বাইরে থেকে দৃশ্যমান হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কাগজ বা লকেটটি অন্য কাপড় বা কাগজে মুড়িয়ে রাখা যেতে পারে।

তবে সুযোগ থাকলে কোরআনের আয়াত, হাদিস বা আল্লাহর নামসংবলিত কোনো বস্তু টয়লেটে না নেওয়াই উত্তম। কারণ, আল্লাহ তাআলার নিদর্শন ও সম্মানিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাসম্ভব সম্মান প্রদর্শন করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান রক্ষা করে, তা তো তার অন্তরের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।’ (সুরা হজ: ৩২)

সুতরাং, স্মার্টফোনে কোরআনের অ্যাপ থাকলেও পর্দায় কোরআনের আয়াত বা পৃষ্ঠা দৃশ্যমান না থাকলে ফোনটি টয়লেটে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে পবিত্র বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান বজায় রাখতে সম্ভব হলে ফোনটি বাইরে রেখে যাওয়াই উত্তম।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন