অধিকৃত পশ্চিম তীরে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (৩১ জুলাই) নাবলুস, হেবরন, বেথলেহেম, রামাল্লাহ ও তুলকারমসহ বিভিন্ন এলাকায় চালানো সমন্বিত অভিযানে অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন।
একই সময়ে নাবলুসের কাছে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তেল গ্রামের আইন আল-মাজরাব এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করে।
এর আগে বসতি স্থাপনকারী সংগঠনগুলো তেল গ্রামে গণমিছিলের ডাক দেয়। এর একদিন আগে ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামের চারটি ফিলিস্তিনি বাড়ি অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করে।
শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনীর সহায়তায় বসতি স্থাপনকারীরা পাশের আল-জুনেইদ ও সুররা গ্রামে মিছিল করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া চার শিশুসহ আরও ১০ জন টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে তেল গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ সময় বহু মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাড়িঘর, যানবাহন ও কৃষিজমিতে আগুন দেওয়া হয়।
এদিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় চালানো পৃথক অভিযানে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। হেবরনের ইয়াত্তা এলাকায় দুজন, বেথলেহেমে দুজন, রামাল্লাহর উত্তরে আতারা সামরিক চেকপয়েন্টে একজন এবং তুলকারমের পূর্বে আনাবতা এলাকায় একজনকে আটক করা হয়।
রামাল্লাহ ও আল-বিরেহ এলাকায় অভিযান চলাকালে ফিলিস্তিন মেডিকেল কমপ্লেক্সের কাছেও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা ১১ হাজার ৭৪টি হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলার মধ্যে রয়েছে সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার, ভূমি দখল, বসতি সম্প্রসারণ, নতুন চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা।
এদিকে জাতিসংঘ চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ভূমি দখলের ঘটনা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) দুই বছর আগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে মত দিয়েছিল।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি জানিয়েছে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০০ শিশু ও ৭৮৫ জন নারী রয়েছেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৪ জন নারী, ৩৫০ জনের বেশি শিশু, ৩ হাজার ২৪৪ জন প্রশাসনিক আটক এবং ১ হাজার ৩২০ জনকে ‘অবৈধ যোদ্ধা’ হিসেবে বন্দি রাখা হয়েছে।
প্রশাসনিক আটকের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই দীর্ঘ সময় ব্যক্তিদের আটক রাখার সুযোগ থাকে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে।
ফিলিস্তিনি বন্দি অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, পশ্চিম তীরে চলমান গ্রেপ্তার অভিযান, সামরিক তৎপরতা এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ফিলিস্তিনিদের ওপর সম্মিলিত শাস্তির নীতি আরও জোরদার করছে।

