সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভিসা বন্ড নীতিতে নতুন সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশসহ ৫০ দেশ অন্তর্ভুক্ত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসা পেতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের এখন থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ-সংক্রান্ত একটি কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাম রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনলাইনে প্রকাশিত মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন নিয়মটি বি-১ (ব্যবসায়িক) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা দেওয়ার শর্ত হিসেবে আবেদনকারীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত চাইতে পারবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট কর্মসূচি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জামানতভিত্তিক ব্যবস্থা ভিসাধারীদের নিয়ম মেনে চলা এবং ভিসার শর্ত পূরণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পাইলট কর্মসূচিতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত নেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে নতুন চূড়ান্ত বিধিমালায় ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জামানতের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালাটি আগামী ৩ আগস্ট ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য

এই কর্মসূচি বাংলাদেশসহ মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান তালিকায় রয়েছে। তবে ভারতকে এ তালিকায় রাখা হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার বা ‘ভিসা ওভারস্টে’র প্রবণতা কমানোই এ নীতির মূল উদ্দেশ্য।

তবে অভিবাসনবিষয়ক অধিকারকর্মীরা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, উচ্চ অঙ্কের জামানতের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক অনেক মানুষের জন্য বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাদের মতে, নতুন নীতির কারণে পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা ও পারিবারিক প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণও নিরুৎসাহিত হতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি এ ধরনের নীতি জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে অনিরাপত্তা বাড়াতে পারে এবং বৈষম্যকে উৎসাহিত করতে পারে।

তবে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করতে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন