জামাতে নামাজে কাতার সোজা রাখা এবং কাতারের ফাঁকা স্থান পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাতারের শৃঙ্খলা ও পূর্ণতা বজায় রাখা জামাতের সৌন্দর্য ও নামাজের আদবের অংশ। তবে অনেক সময় সামনের কাতারে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু মুসল্লি পেছনের কাতারে দাঁড়িয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে খালি জায়গা পূরণ করতে নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে।
ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসার-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জামাতের কাতারে অকারণে ফাঁকা জায়গা রাখা মাকরূহে তাহরিমি। তাই সামনের কাতারে খালি স্থান রেখে মুসল্লিরা পেছনে দাঁড়িয়ে গেলে সেই ফাঁকা জায়গা পূরণ করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজন হলে নামাজরত মুসল্লিদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা জায়েজ।
এ ক্ষেত্রে সামনে দিয়ে যাওয়া ব্যক্তির ওপর নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার গোনাহ বর্তাবে না। কারণ, তার উদ্দেশ্য কোনো অপ্রয়োজনীয় চলাচল নয়; বরং শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী কাতারের খালি জায়গা পূরণ করা। কাতার পূর্ণ রাখা জামাতের গুরুত্বপূর্ণ আদব ও নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত।
তবে প্রয়োজন ছাড়া বা অকারণে নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে চলাচল করা বৈধ নয়। তাই কাতারে খালি জায়গা না থাকলে কিংবা সামনে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন না হলে নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
ইসলামি আলেমদের মতে, জামাতে নামাজের সময় মুসল্লিদের উচিত শুরুতেই সামনের কাতার পূর্ণ করা এবং কাতারে কোনো অপ্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা না রাখা। এতে কাতারের শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং নামাজের আদবও রক্ষা হয়।
সংক্ষেপে, সামনের কাতারের খালি জায়গা পূরণের প্রয়োজন হলে নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া জায়েজ। তবে প্রয়োজন ছাড়া নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
(তথ্যসূত্র: মুসনাদে আহমাদ: ৫৭২৪; রদ্দুল মুহতার: ১/৬৩৬; আদ্দুররুল মুনতাকা: ১/১৮৪; হাশিয়াতুত তাহতাবি আলাদ্দুর: ১/২৬৯)

