রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ঘুম থেকে উঠেই যে ৫ অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন

নিউজ ডেস্ক

সকালের শুরুটা কেমন হবে, তার প্রভাব পড়তে পারে দিনের কর্মক্ষমতা, মনোযোগ ও মানসিক অবস্থায়। ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু সাধারণ অভ্যাস দিনের শুরুতেই ক্লান্তি, অস্থিরতা বা মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সকালকে আরও সতেজ ও কার্যকর করে তোলা সম্ভব।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এমন কয়েকটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো ঘুম থেকে ওঠার পর এড়িয়ে চলা ভালো।

১. বারবার স্নুজ বাটন চাপা

অ্যালার্ম বাজার পর ‘আরও পাঁচ মিনিট’ ঘুমানোর জন্য বারবার স্নুজ বাটন চাপেন অনেকেই। তবে এতে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে এবং ঘুম ভাঙার পরও শরীর ভারী বা ক্লান্ত লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এমন সময়ে অ্যালার্ম সেট করা ভালো, যখন সেটি বাজার পরই বিছানা থেকে ওঠা সম্ভব। প্রয়োজনে ফোন বা অ্যালার্ম ঘড়ি বিছানা থেকে কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে।

২. ঘুম ভাঙতেই ফোনের স্ক্রিন দেখা

চোখ খুলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদ বা ই-মেইল দেখতে শুরু করলে দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যের খবর, কাজ বা সমস্যার মধ্যে ডুবে যাওয়ার আগে নিজের জন্য কয়েক মিনিট সময় রাখা উপকারী।

ফোন দেখার বদলে সকালে এক গ্লাস পানি পান, কয়েকবার গভীর শ্বাস নেওয়া, হালকা স্ট্রেচিং বা কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকার অভ্যাস করা যেতে পারে।

৩. নাশতায় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া

চিনিযুক্ত পানীয়, মিষ্টি সিরিয়াল বা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া কফি সাময়িকভাবে শক্তি দিলেও পরে দ্রুত ক্ষুধা, অবসাদ বা মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

সকালের নাশতায় ডিম, ডাল, দই, ওটস, ফল, বাদাম বা আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকতে পারে এবং শক্তির মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।

৪. ত্বকের যত্ন উপেক্ষা করা

রাতে মুখ পরিষ্কার করে ঘুমালেও সকালে হালকাভাবে মুখ ধোয়া ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে বা সূর্যের আলোতে যেতে হলে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে সবার ত্বক এক রকম নয়। সংবেদনশীল ত্বক, ব্রণ বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা ত্বকবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৫. মানসিক সুস্থতার জন্য সময় না রাখা

ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়ো শুরু করলে দিনের শুরুটা চাপপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সকালে কয়েক মিনিট নিজের জন্য রাখলে মনকে গুছিয়ে নেওয়া সহজ হয়।

জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢুকতে দেওয়া, কয়েক মিনিট ধ্যান করা, কৃতজ্ঞতার বিষয়গুলো ভাবা বা দিনের কাজের একটি সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনা করা মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সহায়ক হতে পারে।

সকালের সব অভ্যাস একদিনে বদলানোর প্রয়োজন নেই। ছোট একটি পরিবর্তন দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর রুটিন তৈরি করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম নাশতা, কিছুটা নড়াচড়া এবং দিনের শুরুতে নিজের জন্য অল্প সময় রাখা—এসব অভ্যাস সকালকে আরও প্রাণবন্ত ও কর্মমুখর করতে সহায়তা করতে পারে।

তথ্যসূত্র: হাফিংটন পোস্ট

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন