রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখছেন জামায়াত আমির

নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকারের মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের হুবহু ফটোকপি দেখা যাচ্ছে। আমরা তো নতুন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তখনকার ফ্যাসিস্টরা যা করেছে, হুবহু তার একটি ফটোকপি আমরা বিএনপি সরকারের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।

গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। সভার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

সভায় বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা নিজেরাই বলেছেন, তাঁরা ধানখেতে, পাটখেতে ছিলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর সেই স্মৃতি তাঁরা ভুলে গেলেন। যে স্বভাব ফ্যাসিস্ট সরকারের ছিল, সেটি এখন তাঁরা ধারণ করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, বিএনপির একজন অ্যাকটিভিস্টকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে তাঁকে সেখানে বসানো হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অভিপ্রায়কে যারা সম্মান করে না, জনগণ তাদের অন্তর থেকে প্রত্যাখ্যান করে। এতে অনেকে শেষ পর্যন্ত দেশেও থাকতে পারে না, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

হবিগঞ্জে কিশোর আলিফ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চোখ তো শেষ করেছিল শেখ হাসিনা, আপনারা আবার শুরু করলেন কেন?…পারবেন চোখটা ফিরিয়ে দিতে? পারবেন না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার সময় চোখে গুরুতর আঘাত পান এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ।
সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য দল থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া একজন নেতা সম্প্রতি সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন। সেই নেতা অন্যদের হেয় করে আজগুবি বক্তব্য দেন এবং সরকার এসব নেতার মাধ্যমে রাজনীতিতে অশালীনতাকে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘একজন তো প্রমোশন পাইতে পাইতে সচিব হয়ে গেছে। সচিব হওয়ার জন্য এখন আর বিসিএস কোয়ালিফাই করা লাগবে না। সচিব হওয়ার জন্য দলীয় একটা পদ থাকলেই হবে।’

গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে। জামায়াতের আমির বলেন, মনে রাখবেন, দুধকলা দিয়ে যদি কালসাপ পোষেন, একদিন সেই সাপের ছোবলে আপনার জীবনও যেতে পারে। মনে রাখবেন, এরা কারও নয়। এরা আসলে মতলববাজ। এরা সমাজকে ডোবায়, নিজেও ডোবে।

ব্যক্তিকে আঘাত না করে যুক্তি দিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তি আর দায়িত্ব এক জিনিস নয়, এ ক্ষেত্রেও ভুল করা যাবে না। যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের সমালোচনা চলবে। দায়িত্বে থাকতে চাইলে সমালোচনা সহ্য করার গুণও থাকতে হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) বলেন, অনেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে আলাদা করে দেখেন। দুই আন্দোলনের চেতনা এক ও অভিন্ন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে এসব আন্দোলন হয়েছিল; কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো আসেনি। তিনি জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেন, তারেক রহমানের আশপাশে মোসাদ ও র–এর এজেন্ট আছে। তিনি শত্রু দ্বারা বেষ্টিত। প্রধানমন্ত্রীর তাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি যেন মোসাদ ও র–এর এজেন্টদের কথা না শুনে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করেন।

এদিকে তারেক রহমান সরকার পরিচালনায় এরই মধ্যে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ঘরে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানিসংকট শুরু হয়ে গেছে, ব্যাংকে টাকা নেই, সারা দেশে দলীয় সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। কথা ছিল ফ্যাসিবাদের চেহারা আর চেয়ার বাদ যাবে, সিস্টেমটা পরিবর্তন হয়ে গণতান্ত্রিক হবে। তারেক রহমান ওই পথে গেলেন না, তিনি গেলেন সন্ত্রাসের পথে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইযহার, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন