রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে চাইলে কীভাবে দোয়া করবেন?

নিউজ ডেস্ক

পছন্দের কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। তবে পারিবারিক মতপার্থক্য বা নানা জটিলতায় বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে গেলে অনেকে তাবিজ কিংবা বিশেষ আমলের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানোর উপায় খোঁজেন। ইসলামি দৃষ্টিতে এ ক্ষেত্রে কী করণীয়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে দারুল ইফতা, দারুল উলুম দেওবন্দ।

এক প্রশ্নের উত্তরে দারুল ইফতা জানায়, পছন্দের মেয়েকে বিয়ের উদ্দেশ্যে তাবিজের ওপর নির্ভর না করে প্রথমে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য উপায়ে তার পরিবারকে রাজি করানোর চেষ্টা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ ও সমঝদার ব্যক্তিদের মধ্যস্থতা নেওয়া যেতে পারে।

পাশাপাশি আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দারুল ইফতার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন এশার নামাজের পর এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১১১১ বার ‘ইয়া লতিফু’ (يا لطيف) পাঠ করা যেতে পারে। আমলের শুরু ও শেষে দরুদ শরিফ পড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দোয়ার ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট একজনকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই নয়, নিজের কল্যাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামি আলেমরা। দোয়া করা যেতে পারে—‘হে আল্লাহ, তাকে জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়া যদি আমার জন্য সার্বিকভাবে কল্যাণকর হয়, তবে আপনি বিষয়টি আমার জন্য সহজ করে দিন।’

ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এক আলোচনায় বলেন, শর্ত যুক্ত করে এভাবে দোয়া করা মানুষের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী হতে পারে। কারণ মানুষ অনেক সময় কোনো বিষয়কে নিজের জন্য ভালো মনে করলেও সেটি প্রকৃতপক্ষে কল্যাণকর নাও হতে পারে। আবার অপছন্দের কোনো বিষয়েও লুকিয়ে থাকতে পারে মঙ্গল।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে কোনো বিষয় অপছন্দনীয় হতে পারে, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার কোনো বিষয় তোমাদের পছন্দনীয় হতে পারে, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা আল-বাকারা: ২১৬)

ইসলামি দৃষ্টিতে তাই পছন্দের মানুষকে বিয়ের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে নিজের জন্য সর্বোত্তম ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত প্রার্থনা করাই উত্তম।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন