রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

স্ত্রীকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হ*ত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

নিউজ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ও স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং চর সামছুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক চার্জশিটভুক্ত আসামি। অভিযোগ রয়েছে, সালেহা বেগমের সঙ্গে গোপনে বিয়ে হয়েছিল তার। পরে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জমি কেনার কথা বলে সালেহা বেগমের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক। তবে জমি কিনে না দিয়ে পরবর্তীতে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করলে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ ঘটনার জের ধরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সালেহা বেগমকে হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ জুন রাতে সালেহা বেগমকে হত্যা করা হয়।

পরদিন ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট এলাকার কাছে মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কমলনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি সালেহা বেগমকে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা টিপে অচেতন করার পর ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, হত্যার পর সালেহা বেগমের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান সেলিম। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করে।

সেলিম আগে থেকেই কারাগারে থাকলেও আবু বকর ছিদ্দিক দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, অর্থসংক্রান্ত বিরোধ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তাদের মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তারা মামলার দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে পরিবারটি ন্যায়বিচার পাবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন