রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চুয়াডাঙ্গায় দালালসহ হাইকোর্টের ভূয়া আইনজীবী আটক

এম এ মামুন চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে নিজেকে হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাগর আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন আইনজীবীরা। পরে তাকে এক সহযোগীসহ চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বর থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক সাগর আহম্মেদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মানি খন্দকার জানান, সাগর আহম্মেদ নিজেকে ঢাকা হাইকোর্টের একজন আইনজীবী পরিচয় দিয়ে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামে বিয়ে করার পর স্থানীয়ভাবে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেন। পরে হাইকোর্ট থেকে বিভিন্ন মামলার রায় ও জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলার তেরশাদপুর গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিপ্লব আলীর জমিসংক্রান্ত মামলার রায় হাইকোর্ট থেকে করিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ লাখ ৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাগরের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর একপর্যায়ে বিপ্লব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি।

বিপ্লব আলী মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মানি খন্দকারের কাছে সাগর আহম্মেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসেন।

এ সময় স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে অবস্থান করছেন। পরে আইনজীবী সহকারীরা কৌশলে সাগর আহম্মেদ ও তার এক সহযোগীকে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে নিয়ে যান।

সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি প্রথমে নিজেকে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য বলে দাবি করেন। পরে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের এক আইনজীবীর জুনিয়র হিসেবে কাজ করেন বলে পরিচয় দেন।

তবে নিজের আইনজীবী পরিচয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় ও গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারায় তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানি খন্দকার জানান, বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সাগর আহম্মেদ একজন হাইকোর্টের আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা করে থাকতে পারেন।

পরে তাকে ভুয়া আইনজীবী ও প্রতারণার অভিযোগে তার সহযোগীসহ চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ ঘটনায় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী সাগর আহম্মেদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ বা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাগর আহম্মেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সাগর আহম্মেদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন