বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

৮ ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়ংকর মাত্রার পারদ

নিউজ ডেস্ক

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বহুগুণ বেশি মাত্রায় ক্ষতিকর মার্কারি শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

এ কারণে এসব ক্রিমের বিক্রি, বিতরণ ও মজুদ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তাদের এসব পণ্য ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিএসটিআইয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএসটিআই জানায়, সম্প্রতি দেশের বাজারে বিভিন্ন ধরনের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিক্রি বেড়েছে। এসব পণ্যের একটি অংশ বৈধভাবে আমদানি করা হয়নি। লাগেজ কিংবা বিভিন্ন অবৈধ ও চোরাই পথে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ফলে পণ্যগুলো বাজারে আসার আগে বিএসটিআইয়ের মান যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না। পরে বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালানো হয়।

পরীক্ষায় আটটি ব্র্যান্ডের ক্রিমে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার মার্কারির উপস্থিতি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী প্রসাধনীতে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১ পিপিএম। তবে পরীক্ষিত পণ্যগুলোতে এর চেয়ে কয়েক দশক থেকে শতগুণ বেশি মার্কারি পাওয়া গেছে।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী—

  • পাকিস্তানের এস জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিমে পাওয়া গেছে ১২০ দশমিক ৩৯ পিপিএম মার্কারি।
  • পাকিস্তানের কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে পাওয়া গেছে ৪৪ দশমিক ৭২ পিপিএম।
  • পাকিস্তানের লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিমে পাওয়া গেছে ৫৯ দশমিক ৮২ পিপিএম।
  • একই প্রতিষ্ঠানের নাভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিমে পাওয়া গেছে ৭৯ দশমিক ৭০ পিপিএম।
  • পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াইটেনিং ক্রিমে পাওয়া গেছে ৮২ দশমিক ৭৬ পিপিএম।
  • পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে পাওয়া গেছে ১২৩ দশমিক ৩৭ পিপিএম।
  • পাকিস্তানের গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে পাওয়া গেছে ৫৬ দশমিক ৯৩ পিপিএম।
  • চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানি লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে পাওয়া গেছে ৬৭ দশমিক ৪৯ পিপিএম মার্কারি।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজারে অনিরাপদ পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট এবং সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করেছে বলেও জানান তিনি।

ভোক্তাদের উদ্দেশে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক বলেন, অজ্ঞাত উৎস বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রসাধনী কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন এবং পণ্যের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শও দেন তিনি।

সন্দেহজনক কোনো প্রসাধনী সম্পর্কে তথ্য থাকলে বিএসটিআইকে জানাতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি এবং স্নায়ুতন্ত্রে জটিলতার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এসব ক্ষতিকর উপাদান অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন