রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসাসহ কয়েকটি স্থানে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর শিক্ষা বোর্ডের সামনে লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নেছারুদ্দীন রাব্বির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সানাউল্লাহ নামে ছাত্রদলের এক সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গুরুতর আহত হয়ে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত নেছারুদ্দীন রাব্বির অভিযোগ, শিক্ষা বোর্ডের সামনে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে অবস্থানকালে একদল ব্যক্তি স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি হামলাকারীদের ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে সন্দেহ করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় হল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই পক্ষের মাঝখানে পুলিশ অবস্থান নেয়।
আলিয়া মাদরাসা এলাকা থেকে আহত অবস্থায় সানাউল্লাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
এর আগে ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘর্ষে আহত তিন শিক্ষার্থী ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঢাকা কলেজের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবিরকর্মী তাওহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছেন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত আরও দুই শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজন আহত শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেলেও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পৃথক এসব সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

