বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনছে সরকার

নিউজ ডেস্ক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, বৌদ্ধ ধর্মীয় কর্মী, যাজকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিকে সরকারি মাসিক সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এ তথ্য জানান।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

সভায় জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সম্মানি ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম বছরে দেশের মোট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৮ জন কর্মী সম্মানি ভাতা পাবেন। এ ছাড়া ৩ হাজার মন্দিরের ৬ হাজার জন, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহারের ১ হাজার ৫০৪ জন এবং ৩০১টি গির্জার ৬০২ জন কর্মী এ সুবিধার আওতায় আসছেন।

ভাতার হার অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজকরা মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। মুয়াজ্জিন, সেবাইত, বিহার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজকদের মাসিক সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে মসজিদের খাদেমরা প্রতি মাসে পাবেন ২ হাজার টাকা।

এ ছাড়া প্রত্যেক উপকারভোগী বছরে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। উপকারভোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সম্মানির অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জানান, এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় কর্মীকে সম্মানি দেওয়া হয়েছিল।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন