বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও পুনর্গঠনের সম্ভাবনা, আলোচনায় সম্ভাব্য নতুন মুখ

নিউজ ডেস্ক

আগামী ১৬ আগস্ট বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। সরকার ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং জনপরিসরে ভাবমূর্তি মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সম্ভাব্য পুনর্গঠনে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রীদের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

সূত্রগুলোর দাবি, যেসব মন্ত্রী দায়িত্ব পালনে প্রত্যাশিত দক্ষতা দেখাতে পারেননি কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়েছেন, তাদের বিষয়ে বিশেষভাবে আলোচনা চলছে। বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ওই মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্রেট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ-সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন করে কাউকে মনোনয়ন না দেওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান ও সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এ কারণে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, দু-একজন প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো কাজ করছেন। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাদের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংসদ-সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলের কয়েকজন নেতাকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন