সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতায় বড় ‘অগ্রগতি’র কথা জানাল কাতার

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারের এমন মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। এর আগে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন আশায় সোমবারও তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল।

তবে এখনো হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রণালিটি অতিক্রমের সময় আরও একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

কাতারের আমিরি দিওয়ান বা আমিরের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো এবং একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

কাতারের আমির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুনের মাঝামাঝি সময়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ওই সমঝোতায় অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

এর আগে সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরানের সামনে এটিই ‘শেষ সুযোগ’।

তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।

এর আগে সপ্তাহান্তে ইরানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। এরপর আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে তার বক্তব্য সামনে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুই ধরনের কৌশল একসঙ্গে ব্যবহার করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে ওয়াশিংটন।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উভয়েই আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে।’

অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

কূটনৈতিক তৎপরতা সফল হলে যুদ্ধের উত্তেজনা কমার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন