স্পেসএক্সের একটি ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের ধাপ বা ‘আপার স্টেজ’ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হেনেছে। ঘটনাস্থলটি পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান চাঁদের আলোকিত অংশে অবস্থিত।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বছর একটি মহাকাশ মিশনে ফ্যালকন-৯ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের রকেটের আপার স্টেজটি মহাকাশে মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে পরে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে চাঁদের দিকে ধাবিত হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হেনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে সংঘর্ষস্থল থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ছবি বা সরাসরি তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচার করা সম্ভব হয়নি।
নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। বরং এ ধরনের ঘটনা চাঁদের পৃষ্ঠ ও গঠন সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহে সহায়ক হতে পারে।
তিনি বলেন, মহাকাশে থাকা বিভিন্ন বস্তু কীভাবে চলাচল করে এবং তাদের সম্ভাব্য গতিপথ কীভাবে আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগও তৈরি হবে।
অন্যদিকে, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ম্যাট বোথওয়েল মহাকাশে ক্রমবর্ধমান ‘স্পেস ডেব্রিস’ বা মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তার মতে, পৃথিবীর কক্ষপথে ক্রমেই বাড়ছে পরিত্যক্ত রকেটের অংশ, অকেজো স্যাটেলাইট ও অন্যান্য মহাকাশ বস্তুর সংখ্যা। ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ম্যাট বোথওয়েল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দশকের মধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথ এতটাই ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে যে নিরাপদে মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ও পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশযান ও স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশ বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠছে।

