রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

হ্যাকারদের নতুন ফাঁদে এক ক্লিকেই সব শেষ, সতর্ক করল মাইক্রোসফট

নিউজ ডেস্ক

ভ্রমণে গিয়ে হোটেলের বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করছেন? অসতর্কভাবে একটি ভুয়া পপ-আপে ক্লিক করলেই হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য। এমনকি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণও দূর থেকে নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা।

নতুন ধরনের একটি সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্ক করে ব্যবহারকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

মাইক্রোসফটের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্যাপটিভক্রাঞ্চ’ নামে পরিচিত এই সাইবার অভিযানের মাধ্যমে হ্যাকাররা হোটেল ও হসপিটালিটি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এ হামলার সঙ্গে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। চলতি বছরের মে মাস থেকে এ ধরনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে মাইক্রোসফট।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হোটেলের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে অনেক সময় ভুয়া পপ-আপ বার্তা দেখানো হয়। এসব বার্তাকে সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের জরুরি আপডেট হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এগুলো ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করানোর ফাঁদ হতে পারে।

ভুয়া সফটওয়্যার ডিভাইসে ইনস্টল হয়ে গেলে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর পর্দার স্ক্রিনশট সংগ্রহ, কিবোর্ডে টাইপ করা তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং দূর থেকে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের মতো কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য, বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড এবং ব্যাংকিং বা আর্থিক তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সাইবার ঝুঁকি এড়াতে হোটেলের ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় হঠাৎ দেখা দেওয়া কোনো অপ্রত্যাশিত পপ-আপ বার্তায় ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে মাইক্রোসফট। বিশেষ করে ওয়াই-ফাইয়ে সংযুক্ত হওয়ার পরপরই সফটওয়্যার আপডেট বা কোনো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টলের অনুরোধ এলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

ভ্রমণের সময় সম্ভব হলে পাবলিক বা বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে ব্যক্তিগত মোবাইল হটস্পট কিংবা বিশ্বস্ত ও নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অজানা লিংক বা পপ-আপে ক্লিক না করা, ডিভাইসের সফটওয়্যার নিয়মিত অফিসিয়াল উৎস থেকে হালনাগাদ রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখলে এ ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন