সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভারত বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে, দাবি শশী থারুরের

নিউজ ডেস্ক

ভারতে বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (এফসিআরএ) সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর। তাঁর দাবি, নতুন বিধান কার্যকর হলে দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বহু প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়বে এবং এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ মানুষ।

বুধবার (৫ আগস্ট) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে থারুর অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত আইন রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্পর্ককে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পথ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, সমর্পণ বা মেয়াদ শেষ হলে তাদের বিদেশি অনুদান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার একটি ‘নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ’ নিয়োগ করতে পারবে। তবে ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

থারুরের দাবি, সরকারের কঠোর নীতির কারণে ইতোমধ্যে বিদেশি অনুদানের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর মতে, এর ফলে হাজার হাজার সামাজিক ও মানবিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে কিংবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বিধানে অবকাঠামো ও সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা দেওয়া বহু প্রতিষ্ঠান অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। এমনকি প্রশাসনিক জটিলতার কারণেও কোনো দাতব্য হাসপাতাল সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কংগ্রেসের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বিলটিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে সংসদে এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা প্রায় ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বিদেশি অনুদান পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৪ হাজার ৪৪৯টি সক্রিয় এফসিআরএ নিবন্ধন রয়েছে। একই সময়ে ২২ হাজার ৪৯৮টি নিবন্ধন বাতিল হয়েছে এবং ১৫ হাজার ২১২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন