রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

হাসিনার বক্তব্যে সমর্থন নেই ভারতের, দিল্লির সাফ বার্তা

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট ভারতে শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। এর দুই দিন পর বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিও ভারতের কোনো সমর্থন নেই বলে জানান তিনি।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা অবদান ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।’

শেখ হাসিনা ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যদের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো বক্তব্যকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে করা কোনো মন্তব্যের প্রতিও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

এদিকে ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলের এই প্রতিবেশী দেশটি পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে।

এ বিষয়ে এক সাংবাদিক ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ভারতের একেবারে পাশের প্রতিবেশী। তাই দেশটির পরিস্থিতির ওপর ভারত গভীর নজর রাখে, বিশেষ করে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ভারত নিয়ে থাকে।

ঢাকার ক্ষোভের পর দিল্লির ব্যাখ্যা

শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ জানিয়েছে। ঢাকার অভিযোগ, বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে নয়াদিল্লির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শেখ হাসিনার বক্তব্যের দায় ভারত সরকার নিতে চাইছে না। একই সঙ্গে তার বক্তব্যকে সমর্থন না করার কথাও প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে।

কূটনৈতিকভাবে ভারতের এ অবস্থানকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে উত্তেজনা প্রশমনের একটি বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি এবং তার রাজনৈতিক বক্তব্য-এই তিনটি বিষয়ই ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে থাকতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন