রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এআই দিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ভাইরাস, বিশ্বজুড়ে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা। ল্যাবরেটরিতে এসব ভাইরাস পুনরুৎপাদন করাও সম্ভব হয়েছে। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি এআই-নির্ভর ভাইরাস তৈরির প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভয়াবহ জৈব নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) নামের দুটি এআই মডেল ব্যবহার করে এই পরীক্ষা চালান। সাধারণ ভাষাভিত্তিক এআই মডেলের মতো শুধু মানুষের ভাষা বিশ্লেষণের পরিবর্তে এসব মডেলকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ ও মানুষের জেনেটিক কোডের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত ও অনুমান করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

গবেষণাটি ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, এআই মডেল ব্যবহার করে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজের শত শত নকশা তৈরি করা হয়। সেগুলোর মধ্যে ১৬টি নকশা পরীক্ষাগারে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, ব্যাকটেরিওফাজ মূলত নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে আক্রান্ত করে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে এগুলোকে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বলেন, জেনারেটিভ এআই দিয়ে সম্পূর্ণ জিনোমের নকশা তৈরি করতে পারা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তাঁর মতে, এমন জিনোম তৈরি করা সম্ভব হয়েছে যা প্রতিলিপি তৈরি করতে এবং কোষের ভেতরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

তবে গবেষণাটির সঙ্গে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের মন্তব্যে এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষকেরা বলেছেন, এ ধরনের সক্ষমতা জরুরি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি প্রশ্ন সামনে এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মূল উদ্বেগ হলো—একই প্রযুক্তি যদি ক্ষতিকর জীবাণু তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে জৈব অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাদের মতে, এখন প্রশ্ন শুধু এআই দিয়ে ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নয়; বরং এই প্রযুক্তি কীভাবে মারাত্মক ক্ষতি না করে নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিই বড় বিষয়।

গবেষক ব্রায়ান হি অবশ্য দাবি করেছেন, তাদের গবেষণায় সম্ভাব্যভাবে জটিল জীবকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ভাইরাসগুলো এআইয়ের প্রশিক্ষণ ডেটা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তারা শুধু ব্যাকটেরিওফাজ নিয়ে কাজ করেছেন এবং পুরো গবেষণা সুরক্ষিত পরীক্ষাগারে সম্পন্ন হয়েছে।

তার ভাষ্য, প্রযুক্তিটি যেন কেবল উপকারী কাজে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে প্রযুক্তিটির অপব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে জীববিজ্ঞান ও জেনেটিক গবেষণার সঙ্গে এআইয়ের সমন্বয় ভবিষ্যতে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার পাশাপাশি এআই-নির্ভর জৈবপ্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, গবেষণাগারের নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বায়োসিকিউরিটি নীতিমালা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন