সম্প্রতি ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এর কোমড়ে প্যান্টের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। যে পুলিশকে টানতে দেখা যাচ্ছে তাঁর পরিচয় তিনি এসআই (উপপরিদর্শক) আবু তাহের ভূঁইয়া। বাড়ি ফেনীতে। তবে ছবিটির সঠিক দিন তারিখ জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে তৎকালীন বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে আবু তাহের ভূঁইয়া বনানী থানায় কর্মরত থাকাকালে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের মিটিং মিছিলে সরাসরি অংশ নিতেন। কড়াইল বস্তিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট কমিটির ক্লাব গুলোতে আড্ডা দিতেন। এর আগে মতিঝিল থানায় থাকাকালে আবু তাহের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও এভাবে আটক করেছিলেন।
মোহাম্মদ আলম নামে গুলশান থানা বিএনপির একজন সদস্য ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছেন, “কোথায় এই আবু তাহের?
পোস্টটি শেয়ার করে বনানী থানা বিএনপির সদস্য হাছান আল মামুন অপু লিখেছেন, “ওরে দরকার। যতো টাকা লাগুক!”
১৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সোহেল রানা কমেন্ট করে ভয়ংকর এক স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, “সেদিন ছিল ঈদের আগের দিন। কুর্মিটোলা হাসপাতালে আমার স্ত্রী ডেলিভারির জন্য ভর্তি। হাসপাতাল থেকে সেই মূহূর্তে এই তাহের আমাকে ধরে বনানী থানায় মামলা দিয়েছিল। অনেক আকুতি মিনতি করেছিলাম। শুনেনি। আমার একটাই অপরাধ ছিল আমি বিএনপি করি।”
বনানী থানা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি রোকেয়া সরকার সেই ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করেন, “এই আওয়ামী লীগের দোসরকে খুঁজে বের করে শান্তি দেওয়া হোক।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসআই আবু তাহের ভূঁইয়া বনানী থানায় থাকাকালীন ২০১৮ সালে মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদারদের গোয়েন্দা তালিকায় তাঁর নাম উঠে এসেছিল। আবু তাহের তখন ছিলেন কড়াইল বস্তির বিট ইনচার্জ। অভিযোগ পাওয়া যায়, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে কড়াইল বস্তিকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নিতেন। নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতেন। তবু আওয়ামী লীগের অনুসারী ছিলেন বলে তৎকালীন তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
বনানীর বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা অভিযোগ করেছেন, “এসআই আবু তাহের ভূঁইয়া ছিল আওয়ামী লীগের দোসর। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে অমানবিক নির্যাতন করতো। নেতাকর্মীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করতেন। জেলে থাকা নেতাদের বাড়ি গিয়ে হুমকি ধামকি দিতেন। ভয় দেখাতেন। নানাভাবে হয়রানি করতেন। পথে ঘাটে লাঞ্চিত করতেন। সে ছিল চরম বেপরোয়া।”
এ বিষয়ে মুঠোফোনে আবু তাহের ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি। কারও অনুসারী ছিলাম না।”

