রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ল খালে যান চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধি

কাজ শেষ হওয়ার আগেই আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ ধসে চালিতাবুনিয়া খালে পড়েছে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন সড়কটি ব্যবহারকারী কয়েক হাজার মানুষ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) আমতলী উপজেলার কালীবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সড়কের এ অবস্থা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান সড়ক ধসে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সড়ক খালে ধসে পড়েছে। আপনারা যা পারেন লিখে দেন। দেখি তাতে কী হয়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমতলী উপজেলার কালীবাড়ী থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়দের দাবি, ওই কাজের সাবকন্ট্রাক্ট নেন চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান। তাঁদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই সড়ক নির্মাণে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী সড়ক সম্প্রসারণ না করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ও আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলীকে একাধিকবার জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সাইফুল ইসলাম ও বাবুল।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে কালীবাড়ী এলাকায় সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ ধসে চালিতাবুনিয়া খালে পড়ে যায়। এ সময় সড়কের পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছও সড়কের ওপর পড়ে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়া শনিবার আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের কালীবাড়ী ও পাতাকাটা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুটি স্থানে প্রায় ২০০ মিটার সড়ক ধসে খালের মধ্যে পড়ে গেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়ক ধসে পড়ায় কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী জামান রাকিব বলেন, ‘ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম করায় প্রায় ২০০ মিটার সড়ক চালিতাবুনিয়া খালে ধসে পড়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তিনি দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সড়ক খালে ধসে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ধসে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।’
বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সড়ক ধসে খালে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়টিও কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন