রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জনগণের আস্থা অর্জনে ইউএনওদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ইউএনওদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ একটি বড় আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ৮৩টি উপজেলার ইউএনওকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানাতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না।’ তাই সবাইকে সম্মিলিতভাবে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদে ও ভালোভাবে বসবাস করতে পারে।

ইউএনওদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন সেটি হয়তো নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেটি দেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষগুলোও দেশেরই মানুষ। তাদের নিজের আপনজনের মতো বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। মানুষকে বোঝানো ও সচেতন করার মাধ্যমেও অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অনেক মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাছ লাগাতে চান। সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহিত করলে বৃক্ষরোপণের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার বিষয়েও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় দিবসের জন্য অপেক্ষা না করে স্থানীয় বিভিন্ন উপলক্ষেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে উঠবে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে দয়া-মায়া ও সহমর্মিতা কমে যাচ্ছে। এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মানবিকতা এবং প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ যেন সব প্রাণী ও প্রকৃতির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হয়, সে লক্ষ্যেও কাজ করতে হবে।

সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রমের পর কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের ফলে অনেক এলাকায় আগে যেখানে বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের পুরোনো চিত্র ফিরিয়ে আনা। পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সভায় উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩ জন ইউএনও ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন